ডেঙ্গু মৌসুম: যে লক্ষণ দেখলে দেরি না করে হাসপাতালে যাবেন
বেশির ভাগ ডেঙ্গু সংক্রমণ হালকা হয়, কিন্তু কয়েকটি সতর্কসংকেত দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয়। কী খেয়াল রাখবেন, ঘরে কী করবেন না — জেনে নিন।

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা ছড়ায় এডিস মশার কামড়ে। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। বেশির ভাগ রোগী বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল খাবারে সেরে ওঠেন। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে রোগটি গুরুতর হয়ে যায়, আর তখন সতর্কসংকেত কত দ্রুত ধরা পড়ল, সেটাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
সাধারণ লক্ষণ
হঠাৎ তীব্র জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও গিঁটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, কখনো কখনো ত্বকে র্যাশ — এগুলো ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ। কষ্টদায়ক হলেও কেবল এগুলো থাকলেই জরুরি অবস্থা নয়।
সতর্কসংকেত: হাসপাতালে যান
জ্বর কমতে শুরু করার সময়টায় চিকিৎসকেরা বিশেষ নজর রাখেন, কারণ তখনই রোগ গুরুতর রূপ নিতে পারে। নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- পেটে তীব্র ব্যথা
- বারবার বমি
- মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, বমি বা মলের সঙ্গে রক্ত
- দ্রুত শ্বাস নেওয়া
- অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অস্থিরতা বা বিভ্রান্তি
- ঠান্ডা, ভেজা ত্বক বা প্রস্রাব খুব কমে যাওয়া
শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে ডেঙ্গু হয়েছে এমন কারও প্রতি বিশেষ নজর রাখুন।
ঘরে যা করবেন, যা করবেন না
জ্বর ও ব্যথার জন্য চিকিৎসকেরা সাধারণত প্যারাসিটামল এবং প্রচুর তরল — পানি, খাবার স্যালাইন, স্যুপ বা ডাবের পানি — খাওয়ার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক খাবেন না, কারণ এতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
প্রজননস্থলেই মশা থামান
ফুলের টবের নিচের প্লেট, বালতি, পুরোনো টায়ার, এয়ারকুলারের ট্যাংক, ছাদের পাত্র — যেখানেই পানি জমে, সেখানেই এডিস ডিম পাড়ে। সপ্তাহে অন্তত একবার এসব পাত্র খালি, পরিষ্কার বা ঢেকে রাখুন। অসুস্থ ব্যক্তিকে মশারির ভেতরে রাখুন, যাতে পরিবারের অন্যদের মধ্যে ভাইরাস না ছড়ায়।
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, রোগনির্ণয়ের বিকল্প নয়। দুশ্চিন্তা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।